দেশের খবর অর্থনীতি প্রযুক্তি

5G র ট্রায়ালের জেরে টিভি দেখতে হয়রানি দর্শকদের।

বিউরোঃ জি বাংলায় জমে উঠেছে ‘জগদ্ধাত্রী’ সিরিয়াল। শ্বশুরবাড়িতেই ‘দ্বিতীয়বার’ বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়েছে জগদ্ধাত্রীর। কিন্তু তাঁর যে কোনওদিন বিয়েই হয়নি! ক্রমশ তা ফাঁস হচ্ছে। টানটান উত্তেজনা। কী হবে এবার কলকাতা পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার জগদ্ধাত্রীর? চরম নাটকীয় মুহূর্তে আচমকা ছন্দপতন—টিভির স্ক্রিন থেকে হাওয়া ছবি। মাঝে মাঝে ফিরে আসছে ঠিকই, কিন্তু আওয়াজ অস্পষ্ট। ব্যস, সব রাগ গিয়ে পড়ল কেবল অপারেটরের ঘাড়ে। শাপশাপান্ত শুরু করলেন কেউ কেউ। কিন্তু দর্শকরা তো জানেন না যে, আসল খলনায়ক ‘৫জি’! মোবাইলে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিষেবা দেওয়ার জন্য টেস্টিং চলছে দেশের নানা প্রান্তে। আর তার জেরেই এই হয়রানি। বিঘ্ন ঘটছে টিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচারে। বিগত কয়েক মাস ধরেই জাঁকিয়ে বসেছে এই সমস্যা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক টাকা খরচ করে ‘ফিল্টার’ বসিয়েছে নামী কেবল সংস্থাগুলি। তাতে সমস্যা মিটেছে। কিন্তু বিপাকে পড়েছে ছোট ও আঞ্চলিক কেবল সংস্থাগুলির একাংশ। তারা এখনও ফিল্টার কিনতে পারেনি। ফলে সুষ্ঠুভাবে টিভি দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দর্শক।
সমস্যাটা ঠিক কোথায়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিভি দেখার ক্ষেত্রে সাধারণত ৩৪০০ থেকে ৪২০০ মেগাহার্ৎজ ওয়াইডব্যান্ড ব্যবহার করা হয়। এদিকে প্রাথমিকভাবে ৩৩০০ মেগাহার্ৎজ ব্যান্ড থেকেই শুরু হয়েছে ‘৫জি’ পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ। আর এই কারণে যত গণ্ডগোল। প্রায় একই ‘ফ্রিকোয়েন্সি’ থাকায় ‘৫জি’র জন্য টিভির অনুষ্ঠান সম্প্রচারে বিঘ্ন ঘটতে থাকে। সেই ঝামেলা এড়াতে ফিল্টার জরুরি হয়ে পড়ে।
সিটি কেবলের অন্যতম কর্তা সুরেশ শেঠিয়া বলেন, ‘এই সমস্যার ব্যাপারে অনেকদিন আগে থেকে আমাদের সাবধান করেছে কেন্দ্রীয় সম্প্রচার মন্ত্রক। আমরাও তড়িঘড়ি সেইমতো ব্যবস্থা নিয়েছি। অ্যান্টেনাগুলিতে ফিল্টার বসানো হয়েছে। সংস্থাভেদে তার খরচ ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা। এই খরচ আমাদেরই বহন করতে হয়েছে। সরকার দেয়নি। কেবল হোক বা ডিটিএইচ—এটা না করলে ব্যবসা চৌপাট হয়ে যেতে বাধ্য।’ আকাঙ্খা কেবলের ডিরেক্টর অলোক জানার দাবি, ‘আমাদের ফিল্টার লাগানোর কাজ প্রায় শেষ। কিন্তু তার আগে পর্যন্ত গ্রাহকদের অভিযোগে জেরবার হয়ে গিয়েছিলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *