রাজ্যের খবর স্বাস্থ্য

কবে মিলবে কোভিড ভ‍্যাকসিন?

বিউরো – কোভ্যাকসিন কবে মিলবে? যার উত্তর আপাতত কলকাতা পুরসভার কাছে নেই। বর্তমানে বন্ধ রাখতে হয়েছে কোভ্যাকসিন টিকাকরণ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সময় পেরিয়ে গেলেও দেওয়া যাচ্ছে না টিকা। যার জেরে অনিশ্চিয়তায় শহরের বাজার-ব্যবসায়ীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকাকরণ। কেন্দ্রীয় সরকার টিকা পাঠাচ্ছে না বলে অভিযোগ রাজ্যের। সোমবার কিছু কোভ্যাকসিন হাতে এসেছে পুরসভার। ফলে চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয় ডোজ শুরু করতে তৎপর তারা।
এদিকে চলতি জুলাই মাসে ভ্যাকসিন দেওয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল কেন্দ্র, তা পূরণ হওয়ার কোনও আশাই দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। জানা গিয়েছে, ভারত বায়োটেকের ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়া গতি না পাওয়ায়, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না। এমনকী যে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে ভ্যাকসিন তৈরির ফর্মুলা দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর কথা ছিল, তা এখনও কেন বাস্তাবায়িত হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এরই মাঝে আবার বিজ্ঞানী মহল জানিয়েছে, করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট টিকাকরণ সম্পূর্ণ হওয়া লোকজনকেও সংক্রামিত করছে। উদ্বেগ বেড়েছে তাতেও।
এই চিত্র শুধু শহরেরই নয়, গোটা রাজ্যে কোভ্যাকসিনের আকাল চরমে। সোমবার বিকেলে সেন্ট্রাল স্টোর থেকে প্রায় দেড় লক্ষ ডোজ কোভ্যাকসিন আসে। নিমেষে তা বণ্টন করে দেওয়া হয় কলকাতা সহ জেলায় জেলায়। এখনও দ্বিতীয় ডোজের চাহিদা মেটাতে লক্ষাধিক কোভ্যাকসিন দ্রুত চাই। সেকথা মেনেছেন রাজ্য হেলথ ডাইরেক্টরেটের টিকাকরণের শীর্ষকর্তা ডাঃ অসীম দাস মালাকারও।
সূত্রের খবর, এখন গোটা রাজ্য ভুগছে টিকা আকালে। ইতিমধ্যে ১০ লক্ষের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার দিন পার হয়ে গিয়েছে। প্রথম ডোজ পাওয়া মানুষদের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার অনুপাত কলকাতা ছাড়া কম রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া প্রভৃতি জেলায়। কলকাতা পুরসভা সূত্রের খবর, শহরের বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি বাজারের দোকানদার-কর্মীদের জন্য বাস পাঠিয়ে টিকাকরণ শুরু করেছিল পুরসভা। ৩ জুন থেকে সেই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। পুরসভার তথ্য বলছে, ১৮২৯৬ জন দোকানদারদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। ৯৮৭৫ জনকে দেওয়া হয়েছিল কোভ্যাকসিন। বাকি ৮৪২১ জন পেয়েছেন কোভিশিল্ড। নিয়ম অনুযায়ী, ২৮ দিনের মাথায় কোভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার কথা। কিন্তু, টিকা না থাকায় দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল, প্রথম ডোজের মতো দ্বিতীয় ডোজের টিকাও বাজারে বাস পাঠিয়ে দেওয়া হোক। পুরসভা প্রথমে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাস পাঠিয়ে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে না। সেটা পেতে পুরস্বাস্থ্যকেন্দ্রেই যেতে হবে। কিন্তু পরে কোভ্যাকসিনের অপ্রতুলতার কারণে পুরসভা নিজের সিদ্ধান্ত বদল করে। বাজার কমিটিগুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কোভ্যাকসিন হাতে আসলে ফের বাস পাঠিয়েই দ্বিতীয়ত টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু এখন ফাঁপড়ে পড়েছে পুরসভা। কারণ, প্রায় হপ্তাখানেক হতে চলল পুরসভার কাছে কোভ্যাকসিন নেই। কেন্দ্র এখনও পাঠাচ্ছে না। কবে আসবে তারও ঠিক নেই। এই অবস্থায় প্রায় ১০ হাজার ব্যবসায়ীর কোভ্যাকসিনের দ্বিতীয় টিকা বাকি পড়ে রয়েছে। দ্বিতীয় টিকা পাওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে টিকা না দিতে পারলে মাস দু’য়েকের ব্যবধান হয়ে যাবে। ফলে চিন্তিত বাজার বিভাগের কর্তারা। উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। ফেডারেশন অফ ট্রেডার্স অর্গানাইজেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের অন্যতম কর্মকর্তা শুভেন্দু ঘোষ বলেন, বেশিরভাগ দোকানদার দ্বিতীয় ডোজ পাননি। চিন্তা তো হবেই। যদিও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার সময় কিছুদিন হল পার হয়ে গেলেও, খুব একটা ক্ষতি নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *