Blog

৩০০ বার সিট – আপ এর অদ্ভুত শাস্তির ফলে পঙ্গু ছাত্রী!! সারা জীবন ক্র্যাচে ভর দিয়ে চলতে হবে ছাত্রীকে,

বিউরো ঃ– ছোটরা দুষ্টুমি করবে না তো কি বড়রা করবে? স্কুলে সব শিশুরাই একটু একটু করে দুষ্টুমি বা শয়তানি করে থাকে। ক্লাস চলাকালীন বাচ্চাদের লুকিয়ে-চুরিয়ে টিফিন খাওয়া কোনও অস্বাভাবিক কাজ নয়। অথবা তারা অনেক সময় এমন কিছু খাবার নিয়ে আসে, যেগুলি স্কুলে আনার অনুমতি থাকে না।

এগুলো শিক্ষকদের কাছে বেশির ভাগ সময় ধরাও পড়ে যায়। সাধারণত একটু আধটু বকাঝকা দিয়ে তাদের সাবধান করে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার চীনে অন্যরকম একটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। চীনের একটি ছাত্রী এরকমই দুষ্টুমি করছিল। সে স্কুলের ছাত্রাবাসে কিছু খাওয়ার লুকিয়ে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু সেটি নজরে আসায় শিক্ষকরা এতটাই রেগে গিয়েছিলেন যে ছাত্রীটিকে ৩০০ বার সিট-আপের শাস্তি দেওয়া হয়।

মেয়েটির বয়স ১৪ বছর। সে দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। মেয়েটির মা ঝাউ স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি ১০ জুন রাত দশটায় ঘটে। এক স্কুল শিক্ষক তাঁর মেয়ের বিছানায় কিছু জলখাবার পেয়েছেন। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, মেয়েটি তখন অস্বীকার করে জানায়, যে জলখাবারটি তার নয়। তা সত্ত্বেও, শিক্ষক তাকে ৩০০টি সিট-আপের সাজা দেন।


কঠিন শাস্তিতে পঙ্গু হয়ে গিয়েছে ছাত্রীটি

মেয়েটিকে ৩০০ সিট-আপ করার জন্য শাস্তি দেওয়ার পরে, শিক্ষক সেখান থেকে চলে যান। যাওয়ার আগে অবশ্য তিনি সেখানে উপস্থিত অন্য একজন শিক্ষককে নিযুক্ত করেছিলেন যাতে নিশ্চিত করা যায় যে, শাস্তির সময় কোন অবহেলা করা হয়নি। ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে মেয়েটি পায়ে চোট পেয়েছিল। তা জানা পরেও শাস্তি কমানো হয়নি। ১৫০ বার ওঠবোস করার পর মেয়েটির অবস্থার অবনতি হয় এবং তার বাবা-মা তাঁকে শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। অবশেষে ডাক্তাররা জানান যে মেয়েটি স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে এবং তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটতে হবে। সেদিনের পর থেকে শিশুটি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে এবং তাকে বিষণ্নতা কাটানোর জন্য ওষুধ পর্যন্ত খেতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *