রাজনৈতিক খবর জেলার খবর রাজ্যের খবর

স্বচ্ছতার মূর্ত প্রতীক খলিলুর, প্রচারে দাপিয়ে বেড়ালেন জঙ্গীপুরের খড়গ্রামে।

রাজেন্দ্র নাথ দত্ত:মুর্শিদাবাদঃ-  এখনও সিপিএম, কংগ্রেস কোনও কেন্দ্রেই প্রার্থী ঘোষণা করেনি। বিজেপি এখনও জঙ্গীপুর লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম জানায়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের জমে উঠল প্রচার। তবে এ দিন জনসংযোগ, বাড়ি বাড়ি প্রচারে দিনভর ব্যস্ত থাকলেন ঘোষিত প্রার্থী ও তাঁদের অনুগামীরা।

তৃণমূলের প্রার্থী বিদায়ী সাংসদ খলিলুর রহমান । তিনি এ দিন সকালেই প্রচারে বেরিয়ে পড়েন। সঙ্গে ছিলেন খড়গ্রাম বিধানসভার বিধায়ক ও মুর্শিদাবাদজেলা প্রাথমিকবিদ্যালয় সংসদের সভাপতি আশীষ মার্জিত,খড়গ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ও মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য শাশ্বত মুখার্জী, খড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ সুপ্রিয় ঘোষ, খড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মঞ্জু আখতারা বিবি, জঙ্গিপুর সাংগাঠনিক জেলা মহিলা তৃনমূল কংগ্রেসের সভাপতি হলেন হালিমা বিবি, খড়গ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি হুমায়ুন কবীর, বালিয়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গোকুল ঘোষ, খড়গ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ সভাপতি জোতির্ময় মন্ডল সহ বালিয়া অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ।
এ দিন সকালে খড়গ্রাম ব্লকের বালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খড়সা গ্রামে জনসংযোগের মধ্য দিয়ে খলিলুর রহমানের প্রচার শুরু হয়। এর পর সেখান থেকে বালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ধামালিপাড়া,ফকির পাড়া,
হরিনারায়ণপুর,রায়পুর,বানুর,ও মহিষার গ্রাম পঞ্চায়েতের কলগ্রাম, জমুনি, সহ খড়গ্ৰাম পঞ্চায়েতের আশপাশের এলাকায় বাড়ি বাড়ি প্রচার করতে দেখা যায় তৃণমূল প্রার্থীকে।
দুপুরের দিকে জঙ্গীপুর লোকসভার মহিষার এলাকায় প্রচার সারেন খলিলুর ।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার পরেই প্রচার শুরু করেছিলাম। নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরে হাতে খুব বেশি সময় না থাকায় পুরোদস্তুর প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়তে হচ্ছে সকলকেই।এলাকায় সাংগঠনিক বৈঠক ও জনসংযোগ সারেন।এ দিন অবশ্য জঙ্গীপুরে সিপিএম বা কংগ্রেসের কোনও প্রচার সে ভাবে চোখে পড়েনি। তাদের প্রার্থীও ঘোষণা হয়নি এখনও। প্রতিটি বুথের সংগঠনের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি সকলকে মিলিত ভাবে শাসকদলকে জেতানোর জন্য ঝাঁপাতে বলেন খলিলুর রহমান।
কলকাতা ব্রিগেডের “জনগর্জন সভা” থেকে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর বুধবার থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী খলিলুর রহমান। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রথমবার লড়াই করতে নেমে বিজেপি এবং কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন খলিলুর রহমান। এ বছরও নিজের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদী খলিলুর রহমান। একাধিক শীর্ষ নেতাকে নিয়ে গ্রামের দেওয়াল লিখন এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করেন খলিলুর।খলিলুর রহমান বলেন, জঙ্গিপুরের সাংসদ হিসেবে গত পাঁচ বছর প্রত্যেকটা দিন আমি এলাকার মানুষের জন্য কাজ করেছি। তাই আমি আশাবাদী উন্নয়নের নিরিখে এবারও সাধারণ মানুষ আমাকে ভোট দেবে। প্রচারের প্রথম দিন যে সংখ্যক মানুষ আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাদের দেখে আমি জয়ের বিষয়ে আরও আশাবাদী হয়েছি।”সালটা ২০১৬। স্থানীয় তৃণমূলের লোকজন তাঁর বাড়িতে ধর্না দেন। আবদার একটাই— ‘আপনাকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হতে হবে।’ কিন্তু কোনও ভাবেই রাজি করানো যায়নি ধুলিয়ানের বিড়ি ব্যবসায়ী খলিলুর রহমানকে। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফরাক্কার দলীয় মঞ্চে সেই খলিলুরের হাতেই তৃণমূলের পতাকা ধরিয়ে চমকে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই মঞ্চ থেকেই ঘোষণা করা হয় , লোকসভা নির্বাচনে মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে খলিলুর রহমানকে প্রার্থী করা হবে। সেই শুরু খলিলুরের রাজনৈতিক যাত্রা।

পরে জঙ্গিপুরে প্রার্থী করা হয় খলিলুরকে। ধনী ব্যবসায়ী খলিলুরের জঙ্গিপুর লোকসভা গত পাঁচ বছরে ছুটতে হয়েছে জঙ্গীপুর থেকে খড়গ্রাম, নবগ্রাম থেকে লালগোলা। আজ এলাকাবাসীর নয়নের মনি।
স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও কাজের নিরীখে প্রথম থাকায় জঙ্গিপুরে দ্বিতীয় বারের জন্য মনোনয়ন পেতে বেগ পেতে হয়নি।শারীরিক নানা অসুবিধা সত্ত্বেও খলিলুরও চষে বেড়িয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *