Uncategorized

সাত বছরের শিশুর বুদ্ধিতে বাঁচল ক্যানিং লোকাল।

বিউরো :- সাত বছরের শিশুর তত্‍পরতায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল আপ ক্যানিং লোকাল! বিদ্যাধরপুর স্টেশন সংলগ্ন মুকুন্দপুর এলাকার ঘটনা। সেখানকারই বাসিন্দা দীপ নস্কর। আজ, সোমবার সকালে সে খেলতে খেলতে রেল লাইনের কাছে এসে দেখে, রেল লাইনের একটা অংশ ভাঙা। সঙ্গে সঙ্গে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে মাকে ডেকে নিয়ে আসে সে। মা ভাঙা লাইন দেখতে পেয়ে লোকজনকে খবর দেন, লাল কাপড় জোগাড় করেন। ততক্ষণে শোনা গিয়েছে লোকাল ট্রেনের হুইসেলের আওয়াজ। তাড়াতাড়ি করে লাল কাপড় নিয়ে সকলে মিলে দাঁড়িয়ে পড়েন রেল লাইনের উপর। ততক্ষণে ওই ভাঙা অংশের প্রায় কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে যায় ট্রেন। তার পর রেল কর্মীরা এসে দেখেন, সত্যি সত্যিই রেল লাইনের উপর ফাটল!

সব দেখেশুনে খবর দেওয়া হয় রেলের ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রেলের ইঞ্জিনিয়ার। শুরু হয় রেল লাইন মেরামতের কাজ। প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট ধরে চলে মেরামতির কাজ। তার পরেই শুরু হয় ট্রেন চলাচল। ছোট্ট দীপের কথা পরিষ্কার হয়নি এখনও ভাল করে। আধোআধো গলায় কথা বলে সে। সে হয়তো জানেও না, কত বড় বিপদের হাত থেকে আজ লোকাল ট্রেনটিকে রক্ষা করেছে। বিপদ হতে পারত যাত্রীদেরও। সে আজ জানাল, খেলতে খেলতে দেখে রেললাইন ভাঙা। তাই দেখে মাকে খবর দিয়েছিল সে। রেললাইন ভাঙা থাকলে কী হয়, তা ভাল করে জানেও না ছোট্ট দীপ। কিন্তু ভাগ্যিস মাকে খবর দিল বুদ্ধি করে! তবে না তার মা লাল কাপড় নিয়ে ছুটে এলেন সবাইকে নিয়ে! এলাকাবাসী সোনালী দাসের কথায়, দীপের কথা শুনেই তাঁরা ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটে যান রেললাইনে। গিয়ে দেখেন সত্যিই ভাঙা! তার পরেই লাল কাপড় নিয়ে তাঁরা এগিয়ে যান লাইন ধরে, ট্রেন আসতে দেখে সে কাপড় উঁচু করে ট্রেন থামান। ট্রেন থামার পরে প্রথমে ট্রেনের চালক বিশ্বাস করেননি, লাইন ভেঙেছে বলে। তার পরে নিজের চোখে দেখে বিশ্বাস হয় তাঁর। তার পরেই খবর দেওয়া হয় রেল কর্তৃপক্ষকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *