অর্থনীতি আন্তর্জাতিক

শ্রীলঙ্কার পর এবার ডুবতে চলেছে নেপাল, ধসতে চলেছে দেশের অর্থনীতি

শ্রীলঙ্কার পর এবার ধস নেপালের অর্থনীতিতেও। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে বেরিয়ে না যায় তা নিশ্চিত করতে আগেভাগেই সতর্ক হয়ে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিল সেদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। দেশের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ ধসে পড়া থেকে আটকাতে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণ চেয়ে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রককে চিঠিও দিয়েছে নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক। একই সঙ্গে ব্যাঙ্ক গুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যানবাহন সহ অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে ঋণ না দিতে।

২৭ টি বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের সঙ্গে বৈঠক করে এই ঋণ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল রাষ্ট্র ব্যাঙ্ক। আমদানিকৃত পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য প্রতি মাসে ভারতকে ২৪ থেকে ২৯ বিলিয়ন টাকা দেয়। ব্যাঙ্ক কর্তাদের দাবি, সেদেশের ডুবন্ত অর্থনীতিকে বাঁচাতেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এহেন সিদ্ধান্ত।কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রককে এই পেট্রোলিয়াম আমদানির খরচ কমিয়ে ১২ থেকে ১৩ বিলিয়ন টাকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই নির্দেশের সাপেক্ষে নেপাল অয়েল কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নগেন্দ্র শাহের অবশ্য দাবি, ব্যাঙ্কের এই প্রস্তাব মানা হলে ভয়াবহ পেট্রোল এবং ডিজেল সংকট দেখা দেবে দেশ জুড়ে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুলাই মাস অবধি তেল আমদানি বাবদ মাসে ১৪ বিলিয়ন ডলার খরচ করত নেপাল। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির কারণে দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই খরচ। এহেন অবস্থাতেই এই খরচ আবার অর্ধেক করার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। কিন্তু একই কারণে অর্ধেক খরচে যে আগের পরিমাণের সমান জ্বালানি তেল আর পাওয়া যাবে না তা বলাই বাহুল্য। সেই কারণেই এই সঙ্কটের আশঙ্কা শাহের৷

হিমালয় ব্যাঙ্কের সিইও অশোক রানা জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যানবাহন সহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য ব্যাঙ্ক লোন দেওয়া যাবে না। ব্যাঙ্কগুলি সেই নির্দেশ মেনেই চলছে।’ গাড়ির সংখ্যা কম হলে জ্বালানি খরচাও কম হবে বলেই দাবি তাঁর।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত নেপালের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১৭% শতাংশ কমেছে । প্রতিবেদন অনুসারে, নেপালের ২০২১ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি ১১.৭৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে ৯.৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ব্যাঙ্কের কাছে যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অবশিষ্ট রয়েছে যা দিয়ে শুধুমাত্র ৬.৭ মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি আমদানি করা সম্ভব, যেখানে ব্যাঙ্কের লক্ষ্য সাত মাস। ফলে এক্ষুনি পদক্ষেপ না নিলে বড়সড় সমস্যায় পড়তে চলেছে নেপাল, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *