রাজ্যের খবর আন্তর্জাতিক দেশের খবর রাজনৈতিক খবর

শহীদ ক্ষুদিরাম বসু’র ১১৪ তম আত্মোৎসর্গ দিবসে শপথ বাক্য

ডেস্ক:- আজ ১১ আগস্ট। পরাধীন ভারতবর্ষের শৃঙ্খল মোচনের স্বপ্নে বিভোর এক তরুণের নিজেকে স্বাধীনতার যুদ্ধের বেদীমূলে সমর্পন করার দিন। ক্ষুদিরাম বসু, সেই তরুণ যিনি হাসতে হাসতে ফাঁসির রজ্জুকে চুম্বন করে নিজের প্রাণকে বিসর্জন দিয়ে পরাধীনতার গ্লানি মোছার পথকে নির্দেশ করে গিয়েছিলেন এদেশের যুব সমাজের কাছে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে যে দুঃসাহসিক কর্মকান্ডে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন তা সময়ের প্রয়োজনকে ধারন করে সময়োপযোগী কর্তব্য পালনকেই নির্দেশ করে। ক্ষুদিরাম বসু নিজে সেই দায়িত্ব পালনে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করেছিলেন শুধু নয়, দায়িত্ববোধ সম্পর্কে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। অগনিত মানুষের প্রতি অসীম দরদবোধ ও মমত্ব তাকে এই কর্তব্য পালনে উজ্জীবিত করেছিল।

আজ আমরা দেশের স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৫ তম বর্ষে পদার্পন করেছি। দেশের সরকার খুব জাঁকজমকভাবে তা পালনে তৎপর হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদিরাম বসু যে স্বপ্নের নিরিখে আত্মোৎস্বর্গ করেছিলেন স্বাধীনতার বেদীমূলে, তা কি পূরণ হয়েছে? আজও কি মানুষের সর্বাঙ্গীন মুক্তি এসেছে? উত্তর আসবে,- না। আজ প্রায় ৯ মাস দেশের অন্নদাতারা রাজধানীর বুকে দেশের সরকার কর্তৃক রচিত তিনটি কৃষক মারা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারের ভূমিকা চূড়ান্ত অসংবেদনশীল। মানুষের প্রয়োজন, আকাঙ্ক্ষা, দাবি কোনো কিছুতেই কর্ণপাত করছে না সরকার। বিপরীতে দেশের ধনকুবেরদের মানুষের শ্রম লুঠ করে মুনাফা ভোগের রাস্তাকে সরকার আরও মসৃণ করছে। করোনা মহামারী’র সময়কালে একদিকে মানুষ অক্সিজেনের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু’র কোলে ঢোলে পড়েছে। অন্যদিকে দেশের কর্পোরেট শ্রেনী এই সমকটকালেও কোটি কোটি টাকা মুনাফা করেছে সরকারের দৌলতে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কি ভয়াবহ অবস্থা তা প্রত্যক্ষ করেছে গোটা দেশ। একদিকে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণকে টিভিতে বক্তৃতা দিয়ে আত্মনির্ভর হওয়ার নিদান দিচ্ছেন, আর অন্যদিকে একজন মহিলা পরিযায়ী শ্রমিক রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করে আধঘন্টার মধ্যেই সেই সদ্যজাত সন্তান কোলে নিয়ে মাইলের পর মাইল রাস্তা পাড়ি দিচ্ছেন! করোনা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে শিক্ষার সর্বস্তরে ফি মুকুব ও বিনামূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদের টিকাকরণ করে স্কুল কলেজ খোলার দাবিতে যখন ছাত্র-ছাত্রীরা সরব হচ্ছে, রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে, তখন তাদের পাঠানো কারাগারের অভ্যন্তরে। মানুষ যখনই তার জীবনের সমস্যাকে প্রত্যক্ষ করার নিরিখে বুনিয়াদী দাবিদাওয়া নিয়ে রাস্তায় নেমে সোচ্চার হচ্ছে, তখনই সরকার তাদের ঐক্যের মধ্যে জাতপাত সাম্প্রদায়িকতার বিষকে প্রবেশ করিয়ে তাদের একতাকে ভাঙ্গার কৌশল নিচ্ছে। সভ্যতার এতগুলো বছর অতিক্রম করেও একজন মানুষকে তার ধর্মবিশ্বাসের জন্যে মরতে হয় এই দেশে! গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে দাঙ্গা লাগানোটা এখনও এই দেশে দস্তুর! স্বাধীন দেশে বহু বছর বসবাস করেও মানুষকে কাগুজে প্রমাণ দিতে হবে তিনি এই দেশেরই নাগরিক! এই হল আজকের ভারতবর্ষ! আমাদের ভারতবর্ষ!

শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর ১১৪ তম আত্মবলিদান দিবসে আমরা সকলে সমবেত হয়েছি। আমাদের বিবেক ও মনুষ্যত্বের সামনে। সাথী, আজ শুধুই শোক যাপনের দিন নয়, আজ বর্তমান সময়ে জীবনের জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের দাবীতে চলমান লড়াইকে তীব্রতর করার শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার দিন। আমরা শপথ করছি যে,- মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যে লড়াই চলছে তাকে আরও বেগবান করার ক্ষেত্রে নিজ ভূমিকাকে প্রসারিত করব। আমরা শপথ করছি, রাষ্ট্রের সকল দমনমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র সংগ্রাম গড়ে তুলব। সকল অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকব। যুগোপযোগী আদর্শের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে চলমান প্রগতিশীল আন্দোলনকে শক্তিশালী করব। সমস্ত শোষিত নিপীড়িত সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলার মহান সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবো। এর মাধ্যমেই সময়ের আহবানে সাড়া দিয়ে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার শর্তগুলি পূরন করব। কোনো অন্যায়ের কাছে নিজের বিবেককে নত করব না। অনুক্ষণ সজাগ থাকবো যাতে আমরা আমাদের মনুষ্যত্ব থেকে বিচ্যুত না হই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *