জেলার খবর প্রযুক্তি রাজনৈতিক খবর রাজ্যের খবর

রাজ্যে প্রথম! পিচের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে নীলাভ রাস্তা বর্ধমানে।

রাজ্যে এই প্রথম! নীল রংয়ের পিচের রাস্তা নির্মিত হল পূর্ব বর্ধমানের রায়নায়। রায়না-২ ব্লকের একলক্ষ্মী টোল থেকে রাউতারা ব্রিজ পর্যন্ত এই নতুন রাস্তার উদ্বোধন করেছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। রাস্তার আধুনিকীকরণের এটা অন্যতম পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

পিচের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে প্লাস্টিক জাতীয় সামগ্রী মিশিয়ে রাস্তা নির্মাণের উদাহরণ রয়েছে রাজ্যে। তবে রায়নার এই রাস্তার নতুনত্ব হল এই রাস্তার উপর একটি নীল রঙের কোট দেওয়া হয়েছে। যা রাস্তাটিকে আরও টেকসই করে তুলবে।
রাস্তাটি তৈরি করতে মোট খরচ হয়েছে ২২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। পিচের সঙ্গে প্লাস্টিক মিশিয়ে তার উপর নীল রংয়ের কোট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই রাস্তা। এর কারণে গরমে প্রচণ্ড উত্তাপে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি, বর্ষায় এই রাস্তায় জল জমার সম্ভাবনা নেই।

জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এমনিতেই প্লাস্টিক দূরীকরণে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এর আওতায় রাস্তার নির্মিত পিচের সঙ্গে প্লাস্টিক মেশানো হচ্ছে। দুটো বিষয় মাথায় রেখে এই ধরনের রাস্তার কথা ভাবা হচ্ছে। একদিকে, কম খরচে টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি, নীল রংয়ের রাস্তায় সৌন্দর্যায়নের বিষয়টিও রয়েছে।

রায়নার বিধায়িকা শম্পা ধাড়া জানিয়েছেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখার জন্য আমরা বর্জ্য সামলানোর নানা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। অল ইন্ডিয়া রোড অ্যাসোসিয়েশন রাস্তার উপর নানা রকম গবেষণা করে। তাদের প্রযুক্তি, গরম পিচে যদি ১০ শতাংশ অবধি অযোগ্য প্লাস্টিক দেওয়া হয়, এর কোনও বিক্রিয়া হয় না। গরম পিচে ১০ শতাংশ প্লাষ্টিক মিশিয়ে দিলে রাস্তাটি সাধারণত ঠান্ডা থাকে।

হাঁটার জন্য উপযুক্ত হয়। জলে এই পিচ ক্ষয় অনেক কম হয়। প্রচণ্ড গরমেও এর কোনও ক্ষতি হয় না। রাস্তার পিচ সাধারণত জলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ক্ষেত্রে জলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাটা অনেকাংশে কমে যায়। তার ফলে রাস্তা টেকসই হয়। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা ব্যবহারের যোগ্য হয়। খালি পায়ে হাঁটার পক্ষেও অনেক বেশি আরামদায়ক হবে এই রাস্তা। সাধারণ পিচের রাস্তায় গরম কালে খালি পায়ে হাঁটা দুষ্কর হয়ে ওঠে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এই রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা যাবে।

তিনি আরও জানান, রাজ্যের মধ্যে প্রথম এই প্রযুক্তি দিয়ে আমরা রাস্তা করতে পেরেছি। এই রাস্তাটি যেহেতু নীল রঙের দেখতে, তাই একে ‘নীল রাস্তা’ বলা হচ্ছে। সাধারণত প্রচণ্ড গরমেও এই রাস্তাটি ঠান্ডা থাকে। তাই মূলত গরমের দেশগুলিতে এই ধরনের রাস্তা তৈরি হয়ে থাকে। দুবাইয়ে এই প্রযুক্তি দেখা যায়। ভারতবর্ষের আবহাওয়ায় এটা পরীক্ষিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *