স্বাস্থ্য

ভ্যারিয়ান্টের হদিশ মিলল দক্ষিণ আফ্রিকায়! সর্তকতা জারি কেন্দ্রের , বি ১.১.৫২৯- নিয়ে জানুন কিছু নতুন তথ্য।

বিউরো ঃ- সম্পূর্ণ স্বস্তি যেন কিছুতেই মিলছে না। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক নোভেল করোনা ভাইরাসের বি.‌১.‌১.‌৫২৯ ভ্যারিয়ান্টের এক সতর্কতা জারি করেছে। যা সম্প্রতি সনাক্ত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বৈজ্ঞানিকরা। এটি দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও, বত্‍‌সোয়ানা এবং হংকং-এ পাওয়া গিয়েছে। তা নিয়ে সব রাজ্যকে সতর্ক করল কেন্দ্র।কেন্দ্রের সতর্কতা জারি

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ এক চিঠির মাধ্যমে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে লিখে বলেছেন, ‘‌এই ভ্যারিয়ান্টের উল্লেখযোগ্য উচ্চ সংখ্যার মিউটেশন রয়েছে আর তাই দেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। যে যাত্রীরা ওই তিন দেশ থেকে আসবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। জোর দিতে হবে নজরদারি এবং পরীক্ষায়। তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।’‌ ইতিমধ্যেই নতুন ভ্যারিয়ান্টের সংস্পর্শে এসে বত্‍সোয়ানা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও হংকংয়ে নিশ্চিত কেস পাওয়া গিয়েছে।

২২ জন আক্রান্ত দক্ষিণ আফ্রিকায়

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার একটি নয়া প্রজাতির হদিশ মিলেছে। যা আগে কখনও দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার তরফে জানানো হয়েছে, বি.১.১.৫২৯ প্রজাতিতে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন। যে প্রজাতির করোনা ভাইরাসের বিষয়ে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ভাইরোলজিস্ট টম পিকক দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় যথেষ্ট সেই প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভ্যারিয়ান্টের কাছে করোনা ভাইরাস টিকাও অকার্যকর হতে পারে।

বি.‌১.‌১.‌৫২৯ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি তথ্য জেনে রাখুন

১)‌ দক্ষিণ আফ্রিকার বৈজ্ঞানিকরা জানিয়েছেন যে বি.‌১.‌১.‌৫২৯ ভ্যারিয়ান্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ সংখ্যার মিউটেশন জড়িত, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে হ্রাস করে দিতে পারে। এর অর্থ হল নতুন এই ভ্যারিয়ান্ট বেশি সংখ্যক সংক্রমক ছড়াতে সক্ষম।

২)‌ এই ভ্যারিয়ান্ট প্রথম সনাক্ত হয় বত্‍সোয়ানায়। যেখানে এই ভ্যারিয়ান্টে ১০০ জন সংক্রমিত হয়, যার মধ্যে বেশিরভাগ জনই গাউটেঙ্গের। দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন স্ট্রেন নিয়ে আলোচনা করার জন্য ২৬ নভেম্বর ভাইরাস বিবর্তন সম্পর্কিত হু-এর ওয়ার্কিং গ্রুপকে জরুরি বৈঠকের অনুরোধ করেছে।

৩) লন্ডনের ইউসিএল জেনেটিক্স ইনস্টিটিউটের পরিচালক, ফ্রাঙ্কোয়েস ব্যালোক্স, একটি প্রেস রিলিজে ইঙ্গিত করেছেন যে নতুন রূপটি একটি ইমিউনোকম্প্রোমাইজড ব্যক্তির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের সময় বিকশিত হতে পারে, সম্ভবত একজন চিকিত্‍সাবিহীন এইচআইভি/এইডস রোগীর ঝুঁকি এতে বেশি থাকতে পারে।‌

৪)‌ এই প্রজাতির করোনা ভাইরাসের বিষয়ে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের ভাইরোলজিস্ট টম পিকক দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় যথেষ্ট সেই প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এও জানিয়েছে যে এর ভয়ানক তীব্রতাকে পর্যবেক্ষণ করা খুবই প্রয়োজন রয়েছে।

৫)‌ হু ইতিমধ্যে কোভিড-১৯ এর চারটি রূপকে ‘‌উদ্বেগের রূপ’‌ হিসেবে মনোনীত করেছে- আলফা বা ইউকে ভ্যারিয়ান্ট (বি.১.১.৭), বিটা বা দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়ান্ট (বি.১.৩৫১), গামা বা ব্রাজিল ভ্যারিয়ান্ট (পি.১) এবং ডেল্টা বা ভারতের ভ্যারিয়ান্ট (বি.১.৬১৭.২)।

ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকাঅন্যদিকে, গত ১১ নভেম্বর কেন্দ্রের তরফে যে যে দেশগুলি থেকে আগত যাত্রীদের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও একইরকমভাবে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *