Uncategorized

ভারতবর্ষ তথা পশ্চিমবঙ্গেই আমেরিকার আগে ক্রিসমাসকে ছুটির দিন হিসেবে পালন শুরু হয়! বড়দিন কিভাবে বিভিন্ন দেশে পালন করা হয় জেনে নিন !

  • অনুশ্রী ভান্ডারী ডেক্স ঃ-কিছু উৎসব আছে যার আলাদা করে কোনও ধর্মের নয়, সারা পৃথিবীর সব ধর্মের মানুষ মেতে ওঠেন সেই উৎসবের মেজাজে। তেমনই একটি উৎসব হল ক্রিসমাস, বিশেষ করে বাঙ্গালির জন্য এই উৎসব অন্যতম জনপ্রিয়। শুধু খ্রিস্টান ধর্ম নয় পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষকেই দেখা যায় কলকাতায় এই ফেস্টিভ সিসেনটি উপভোগ করতে।

কিন্তু প্রশ্ন হল ক্রিসমাস আসলে কীভাবে উদযাপন করা হয়? আমাদের দেশে খ্রিস্টানরা কীভাবে উদযাপন করে ক্রিসমাস? আর অন্যান্য দেশেই বা কীভাবে উদযাপিত হয়ে থাকে? যিশু খ্রীস্টের জন্মদিন?আমাদের .দেশে .বড়দিন .

একটা মজার জিনিস কি জানেন, আমাদের দেশে ক্রিসমাস পালন করা শুরু হয়েছিল আমেরিকারও আগে!মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিসমাসের দিনটিকে ছুটির দিন হিসেবে পালন করা শুরুই হয়েছে ১৮৭০ সালে। তবে ইংরেজরা ভারতবর্ষে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরে বড়দিনে ছুটি পালন করা হয়।

খ্রিস্টান ধর্ম ভারতবর্ষে এসেছে সবার শেষে, ১৬ শতকে পর্তুগিজরা পশ্চিমবঙ্গে আসার পরে। সুন্দরবনে অঞ্চলে প্রথম চার্চটিও ওরাই বানিয়েছিল, বৃহত্তর যশোর জেলার কালিগঞ্জে (সুন্দরবনের কাছাকাছি অঞ্চলে), ১৫৯৯ সালে হয় চার্চ। প্রথম বড়দিন পালন করা হয়েছিল অনেক পরে। ১৬৬৮ সালের কথা। জব চার্ণক যাচ্ছিলেন হিজলির উদ্দেশ্যে সেইসময় পালন করা শুরু হয় বড় দিন। ইনি-ই কিন্তু কলকাতা নগরী পত্তন করেছিলেন।

ইতালিতে বড়দিন

ইউরোপের এই দেশটিতে প্রায় একমাস ধরে বড়দিন পালন করা হয়ে থাকে। ইতালিতে বড়দিন উদযাপন করা শুরু হয় ৮ ডিসেম্বর থেকে। ক্রিসমাসের ট্রি দিয়ে সবকিছু ফুটিয়ে তোলা হয়। যিশুর জন্মের সময়ের ছবি ফুটিয়ে তুলতে মা মেরি, জোসেফ, যিশু, একটি গাধা ও একটি হাঁসও তৈরি করে; এই মূর্তিগুলোকে বলে প্রিসেপে।

৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা বড়দিন সেলিব্রেশান করে থাকে। সেদিন ওরা সব প্রিসেপে আর ক্রিসমাস ট্রি তুলে ফেলে। এরমধ্যে ওরা ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনের পাশাপাশি ২৬ ডিসেম্বর সেইন্ট স্টিফেন’স ডে’ও পালন করে। এই সেইন্ট লুসি’স ডে পালন করার পেছনে রয়েছে ছোট্ট একটি কাহিনী। ১৫৮২ সাল, সিসিলিতে এক ভয়াবহ দূর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সবাই না খেতে পেয়ে হা-হুতাশ করছে। এমন সময় সেইন্ট লুসি সেখানে এক জাহাজ গম নিয়ে উপস্থিত। সবাই এতই ক্ষুধার্ত ছিল, যে এখানকার মানুষেরা গম থেকে আটা তৈরির জন্যও অপেক্ষা করলো না, তক্ষুণি গম পুড়িয়ে পুড়িয়ে খেতে শুরু করে দিল। এই ঘটনাকে উদযাপন করতে সেখানে সেইন্ট লুসি’স ডে’তে কোনো আটার তৈরি খাবার খাওয়া হয় না।অস্ট্রেলিয়ান বড়দিন

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে বড়দিন আবার একটু অন্যরকম কারন তখন এখনকার মানুষের গ্রীষ্মকাল। তবে জাঁকজমক কম হয় না। এখানকার মানুষেরা ইউরোপ-আমেরিকানদের মতো করেই বড়দিন পালন করে থাকেন। খ্রিস্টান ধর্ম ইউরোপ-আমেরিকা থেকেই ওদের দেশে গেছেন। আর ওখানকার আদিবাসীরা তো ওদের নিজেদের মিষ্টি-মিষ্টি ধর্মই পালন করে। তবে ওদের খাবার-দাবারের মধ্যে একটা বিশেষ পুডিং থাকে।একটা মজা ও আছে এই পুডিং এ। এর ভেতরে এক টুকরো সোনা থাকে। সেই সোনার টুকরোটা যার ভাগ্যে পড়ে, ধরে নেওয়া হয়, তার ভাগ্য খুবই ভালো।

অস্ট্রেলিয়াতে ক্রিসমাসের দিন দু’টি বড় খেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। আসলে এখানকার মানুষের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি হল বক্সিং ডে টেস্ট। ডিসেম্বরের ২৫-২৬ তারিখকে বক্সিং ডে বলা হয়ে থাকে, আর সেদিন কোনো না কোনো টেস্ট ম্যাচ অস্ট্রেলিয়া খেলে প্রতি বছরই। সেই টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচটা ওদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ; ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ম্যাচই শুধু না! আরেকটা খেলা হয় ইয়ট রেস। সিডনি থেকে হোবার্ট পর্যন্ত হয় এই ইয়ট রেস।

ক্রিসমাসের আগে আগেই ক্রিসমাসের আগমনী বার্তা সবাইকে জানিয়ে দিতে অ্যাডিলেডে একটা বিশাল শোভাযাত্রার আয়োজন করে হয়ে থাকে। প্রায় ৪ লাখ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে এখানে! আবার মেলবোর্নে ‘ক্যারোলস বাই ক্যান্ডললাইট’ নামে একটা মিউজিক্যাল শো হয়, অনেকটা কনসার্টই বলা যায়। বড়দিনের রাতে ‘সিডনি মেয়র মিউজিক বল’-এ অনুষ্ঠিত এই কনসার্টটি এখন এতই জনপ্রিয়।নাইজেরিয়ার বড়দিন

নাইজেরিয়ায় বড়দিনে শহর গুলি পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। গ্রামের দিকে ছুটতে শুরু করে সকলে। লোকজন বাজারগুলোতে ভিড় করে কেনাকাটা করতে। ওখানে বড়দিনের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এখানকার মানুষেরা রান্না করে নানা পদের মাংস, সুস্বাদু সব মাংস। আর এই মাংসের তরকারিগুলোর আবার গালভরা সব নামও আছে– জুলোফ রাইস, টুয়ো, ফুফু। সঙ্গে থাকে নানা রকমের পানীয়।

রাশিয়ার ক্রিসমাস

একমাত্র দেশ যেখানে ক্রিসমাস আসে ১০ দিন পরে। ক্রিসমাস বা বড়দিন পালন করে ৬ জানুয়ারি। আমরা এখন গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার ব্যবহার করলেও রাশান চার্চ এখনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে সেই পুরনো জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে। আর সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ীই ৬ জানুয়ারি বড়দিন পালন করে।

রাশিয়ার ক্রিসমাসে মজার ব্যাপার হল এই যে ওখানে ক্রিসমাস আর নববর্ষ একসঙ্গে পালিত হয়। আর তাই ওদের নববর্ষের উদযাপনেও মধ্যেখানে একটা ক্রিসমাস ট্রি থাকে। অবশ্য ক্রিসমাস ট্রি’কে ডাকা হয় ইয়োল্কা নামে। ক্রিসমাস ট্রি হিসেবে পাইন গাছের বদলে বেশিরভাগ সময়েই ব্যবহার করা হয় স্প্রাস গাছ।

তবে বর্তমানে যেভাবে ক্রিসমাস পালন করা হয় রাশিয়াতে, আগে ঠিক সেভাবে পালন করত না। ওদের ক্রিসমাস উদযাপনের এই পালাবদল করেন পিটার দ্য গ্রেট। ১৭ শতকে ইউরোপে ঘুরতে এসে ক্রিসমাস উদযাপন করতে দেখেন। আর এদের উদযাপন দেখে তাঁর এতই ভালো লেগে যায়, তিনি রাশিয়াতেও সেগুলো প্রচলন করেন। তার ফলেই এসেছে ইয়োল্কা। এরকম ‘দায়েদ মরজ’, ‘গ্র্যান্ডফাদার ফ্রস্ট’, ‘স্নেগুরোচকা’, ‘দ্য স্নোমেইডেন’সহ আরও অনেক কিছুরই প্রচলন।মেক্সিকান বড়দিন

মেক্সিকোতে ক্রিসমাস পালন করা হয়ে থাকে একটু আলাদাভাবে। এখানকার ক্রিসমাসেরও আবার আলাদা নাম আছে- লাস পোসেদাস। এখানে অনেক আচার নিয়ম পালন করে, যেগুলো শুধু মেক্সিকোতেই দেখা যায়। ৩০ ধরনের নিয়ম মেনে থাকেন এখানকার মানুষেরা! যেমন ধর, প্রায় ৯ দিন ধরে শহরের মানুষেরা শহরের ঘরের দরজা থেকে দরজায় ঘুরে বেড়ায়। আসলে বেথলেহেমে আসার পর মা মেরি যিশুকে নিয়ে দিনের পর দিন এভাবে মানুষের ঘরের দরজা থেকে দরজায় ঘুরে বেড়িয়েছিল; কিন্তু কেউ তাঁকে আশ্রয় দেয়নি। সেই করুণ ঘটনা স্মরণ করেই তারা এই নিয়ম পালন করে হয়ে থাকে।

মেক্সিকানদের ক্রিসমাসের উৎসবও চলে অনেক দিন ধরে। শুরু হয় ১২ ডিসেম্বর ‘লা গুয়াদালুপানা’ নামের ভোজ দিয়ে। আর শেষ হয় ৬ জানুয়ারি, ‘এপিফানি’ নামের ভোজ দিয়ে। তারা বিশ্বাস করেন যে, মাঝরাতে শিশুদের স্টকিং (মোজা) উপহারে ভরে দিয়ে যায় ৩ জ্ঞানী ব্যাক্তি (থ্রি ওয়াইজ ম্যান)। সেই ৩ রাজা, যারা যিশুর জন্মের পরপরই তাঁর জন্য উপহার নিয়ে গিয়েছিলেন।

ব্রাজিল

ব্রাজিলও অস্ট্রেলিয়ার মতোই বড়দিন পালন করা হয়ে থাকে।ক্রিসমাসের সময় এখানেও গ্রীষ্মকাল। ব্রাজিলের সাও পাওলো, রিও ডি জেনিরোর মতো বড় বড় শহরগুলো তো পুরোই সেজেগুজে বড়দিন পালন করে। এমনকি তুষার পড়ে না বলে ওরা অনেক সময় ক্রিসমাস ট্রি’র উপরে তুলো দিয়ে বরফের মতো বানিয়ে রাখে! সবথেকে বেশি মজা হয় কিউরিতিবা শহরে। সেখানে ঘরবাড়ি সাজানোর প্রতিযোগিতাই হয়! ক্রিসমাসের দিন বিচারকরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সবচেয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, সেটা খুঁজে বের করেন।

সান্তা ক্লজকে এখানে অন্যনামে ডাকে হয়ে থাকে। পাপাই নোয়েল বলা হয়ে থাকে। আবার ওদের খাবারের তালিকাতেও থাকে বিশেষ খাবার। চকলেট আর কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি এই বিশেষ খাবারটির নাম- ব্রিগেডেইরো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *