জেলার খবর রাজ্যের খবর

ব্রিটিশের ডায়মণ্ড হারবার ! লেজার শো’তে ফুটে উঠবে ঐতিহাসিক হীরক বন্দরের আঞ্চলিক ইতিহাস।

হুগলি নদীর তীরে বন্দর শহর , যার পোষাকি নাম ডায়মন্ড হারবার। কালের নিয়মে স্বাধীন ডায়মন্ড হারবারের ঐতিহাসিক নিদর্শন আজও সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। হুগলী নদীর তীরে ডায়মন্ড হারবার আর পাঁচটা আধুনিক শহরের ন্যায় নিজেকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিজেকে সঁপে দিয়েছে।

১৯৮২ সালে পুরসভা গঠন , বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত পুর-প্রশাসন বন্দর শহরকে অন্য মাত্রায় রূপ দিতে চাইছে। ডায়মন্ড হারবারকে বিশ্ব দরবারে সমাদৃত করতেই ‘ডায়মন্ড মডেল’কে অন্যভাবে পরিবেশন করছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে বইয়ের পাতা থেকে তুলে চোখের মণিকোঠায় প্রস্ফুটিত করতে এমন পরিকল্পনা। ‘ডায়মন্ড মডেল’ এর সৌজন্যে হীরক নগরী হতে চলেছে স্বপ্ননগরী। সূত্রের খবর , পর্যটন দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় গড়ে উঠবে নতুন ডায়মন্ড হারবার।

দলীয় সূত্রে খবর , আনুমানিক কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী ঐতিহাসিক শহরের আঞ্চলিক ইতিহাস সহ মুক্তাঙ্গন থেকে ডায়মন্ড হারবার ফেরীঘাট পর্যন্ত নদী তীরবর্তী প্রায় এক কিমি এলাকা মুড়তে চলেছে অত্যাধুনিক সৌন্দর্যায়নের মোড়কে। নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু থেকে বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , মহাত্মা গান্ধী থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামী চারুচন্দ্র ভাণ্ডারী – কোন সালে ডায়মন্ড হারবারে এসেছিলেন কে ? লেজার শো’র দৌলতে জীবন্ত হয়ে উঠবেন ডায়মন্ড হারবারের আঞ্চলিক ইতিহাসের পাতায় সমাদৃত সকলেই।

এই প্রসঙ্গে বিধায়ক পান্নালাল হালদার বলেন , “সাহিত্য থেকে স্বাধীনতা – ইতিহাসের মেলবন্ধন ঘটাবে ডায়মন্ড হারবার। ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী ডায়মন্ড হারবারকে পর্যটকমুখী করতে পরিকল্পনামাফিক সৌন্দর্যায়নে আমূল পাল্টে যেতে চলেছে ডায়মন্ড হারবার শহরের পর্যটনকেন্দ্রিক মানচিত্রের রূপরেখা।’’

নদীর দ্বারপ্রান্তে চওড়া ফুটপাথ , ফুড কোর্ট , অত্যাধুনিক আলোক স্তম্ভ সহ এসডিও গ্রাউন্ড থেকে মুক্তাঙ্গন পর্যন্ত বসার আসন নির্মাণ – নদীর উপকণ্ঠ থেকে সূর্যোদয় , সূর্যাস্ত সহ ডায়মন্ড হারবারের অপরূপ প্রাকৃতিক শোভা চাক্ষুস করতে পারবেন পর্যটকরা। ডায়মন্ড হারবারে ঐতিহাসিক চিংড়িখালি কেল্লা শুধু ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ডায়মন্ড হারবারের কেল্লার অচেনা ইতিহাসকে তুলে ধরতেই চিংড়িখালি কেল্লার আদলে একটি রেপ্লিকা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে , খবর প্রশাসন সূত্রে।

নতুন আঙ্গিকে ডায়মন্ড হারবারের সৌন্দর্যায়ন প্রসঙ্গে বিধানসভার পর্যবেক্ষক সামিম আহমেদ বলেন , “সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মস্তিস্কপ্রসূত এই ভাবনা। তিনি ডায়মন্ড হারবারকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ডায়মন্ড হারবারের অজানা , অচেনা ইতিহাসকে তুলে ধরতেই এবং ডায়মন্ড হারবারকে পর্যটকমুখী করতেই এমন উদ্যোগ”।

আর শুধু সাদামাঠা মফঃস্বল ডায়মন্ড হারবার নয় , শীঘ্রই শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত ডায়মন্ড হারবার শহরের অত্যাধুনিক সৌন্দর্যায়নের নির্মাণ কাজ , এমনটাই জানা গেছে প্রশাসন সূত্রে। “I Love Diamond Harbour” – শুধু  মুখের কথা নয় , শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করাও নয় ! এবার আক্ষরিক অর্থেই “I Love Diamond Harbour” বলবেন ডায়মন্ড হারবারে আসা পর্যটক থেকে শুরু করে ডায়মন্ড হারবারবাসী – সকলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *