দেশের খবর রাজনৈতিক খবর রাজ্যের খবর

বিজেপি-র MLA-কে চড় কষিয়েছিলেন এই ব্ল্যাক বেল্ট মহিলা IPS, এবার তিনিই জেরা করবেন অনুব্রতকে

সেই কাকভোর থেকে শুরু। রাত দেড়টা নাগাদ মুক্তি। ঝড়ের গতিতে কেটেছিল মঙ্গলবারটা। আজ, বুধবার সকাল থেকেই ফের সারাদিনের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের। মঙ্গলবার সকাল থেকে যুদ্ধ শুরু। দিনভর ধকল শেষে দিল্লি পৌঁছেও স্বস্তি মেলেনি। মঙ্গলবার রাত দেড়টা পর্যন্ত চলেছে শুনানি। শেষে অনুব্রত মণ্ডলকে তিন দিনের জন্য ইডি হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক রাকেশ কুমার৷ জানা গিয়েছে, কেষ্ট দিল্লি পৌঁছনো মাত্রই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে রাতেই শুনানির ব্যবস্থা করে ইডি। ভার্চুয়ালি পেশ করে শুনানি শুরু করা হয় দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে। জেরার জন্য তৈরি হয় ৬ সদস্যের বিশেষ দল। জানা গিয়েছে, এই বিশেষ দলের নেতৃত্ব দেবেন এক বিশেষ মহিলা আইপিএস। নাম সনিয়া নারাং।

সনিয়া নারাং। বর্তমানে ইডি-র অন্যতম স্পেশাল ডিরেক্টরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। ইডির ডিরেক্টর সঞ্জয় মিশ্রর অধীনে যে চার ডিরেক্টর রয়েছেন, সনিয়া তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত ডাকসাইটে বলেই পরিচিত। শুধু বুদ্ধিতেই নয়, গায়ের জোরেও যে কাউকে মাত করে দিতে পারেন ক্যারাটেতে ব্ল্যাক বেল্ট সনিয়া।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্তদের চোখা চোখা প্রশ্নে পর্যুদস্ত করে দেওয়ায় সনিয়ার বিশেষ ব্যুৎপত্তি রয়েছে। আর প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর না পেলে তো…কথাই নেই। শোনা যায় একসময় নাকি এক বিজেপি বিধায়কের গালেও ঠাসিয়ে চড় বসিয়েছিলেন তিনি। কর্নাটকের লোকায়ুক্ত দুর্নীতি ফাঁসে তাঁর ভূমিকা সকলের নজর কেড়েছিল। বেঙ্গালুরুর PU পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলারও তদন্ত করেছিলেন তিনি। বারবারই নানা কাজের জন্য সংবাদ শিরোনামে এসেছেন এই নারাং।

চণ্ডীগড়ের বাসিন্দা সনিয়ার বাবাও ছিলেন আইপিএস। ছোট থেকেই পড়াশোনায় দুর্ধর্ষ, দ্বাদশে উত্তর ভারতে প্রথম হয়েছিলেন। পরে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে গোল্ড মেডেলিস্ট। ২ বার অসফল হওয়ার পরে ২০০২ সালে আইপিএস ক্র্যাক করেন সনিয়া।

সূত্রের খবর, এই ৬ সদস্যের দলে সনিয়া ছাড়াও রয়েছেন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর বিবেক আর ওয়াদেকার, স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাহুল নবীন, দলে থাকছেন সনিয়া নারাং। থাকছেন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর মনিকা শর্মাও। দলে রাখা হয়েছে সুনীল কুমার যাদব, যোগেশ শর্মা, ও সোহান কুমার শর্মার মতো অফিসারদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *