আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি

ফুরিয়েও শেষ হয়ে যায়নি ISRO-র মঙ্গলযান, এখনো এভাবে কাজ করে যাবে ভারতের জন্য।

সারাবিশ্বের সামনে ভারতের (India) সম্মান বাড়িয়ে ভারতের ইসরোর (Indian Space Research Organisation) পাঠানো মঙ্গলযান (Mangalyaan) পৌঁছায় মঙ্গল গ্রহের (Mars) কক্ষপথে। ভারতকে এক গৌরবময় জায়গাতে পৌঁছে দেয় মঙ্গলযান। দীর্ঘ এক দশক মহাশূন্যে কাটানোর পর অবশেষে শেষ হচ্ছে মঙ্গলযানের জীবনীশক্তি। ইসরো নিজেই ঘোষণা করে এই খবর। কিন্তু তা নয় মোটেই, জানা যাচ্ছে এখনও জীবিত মঙ্গলযান। ভবিষ্যতে তা কাজেও আসতে চলেছে ভারতের!

এ যেন শেষ হয়েও হইল না শেষ! ভারতের মঙ্গলযান নিজের আয়ুর ১৩ গুণ দীর্ঘ সময় কাজ করার পর স্তব্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো অনেক কাজে আসবে সেটি। মার্স অরবিটার মিশনে (Mars Orbiter Mission) মোট ৫টি পেলোডের দ্বারা ১৫ কেজি ওজন বয়ে নিয়ে যায় মঙ্গলযান। আর এই পেলোডের কাজ ছিল মঙ্গল গ্রহের ভৌগোলিক, বাইরের স্তর, বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া, গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো।

এবার সেই পেলোড গুলো অনেক কাজে আসছে ইসরোর। জানা যাচ্ছে মঙ্গলযানে বিভিন্ন পেলোডের মধ্যে একটি ছিল থার্মাল ইনফ্রারেড ইমেজিং স্পেকট্রোমিটার। এই পেলোড হলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা। আর এর কাজ হল যেকোনো স্থানে উপস্থিত তাপ অনুধাবন করা। প্রসঙ্গত তাপমাত্রার ভিত্তিতে কোনো কিছুর আকার আকৃতি জানা যায় সহজেই।

এখন আমাদের দেশের বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইটে এই ক্যামেরা ব্যাবহার হচ্ছে। দূর থেকে কিছু অনুধাবন করতে এই স্যাটেলাইটের জুড়ি নেই। সাধারণত আবহাওয়া সংক্রান্ত উপগ্রহে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাথে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত স্যাটেলাইটেও এই থার্মাল ইনফ্রারেড ইমেজিং সেন্সর ব্যাবহার করা হয়। আর মঙ্গলযানের এরপরের সবেচেয় ক্ষমতাসম্পন্ন পেলোড ছিল মার্স কালার ক্যামেরা।

এই মার্স কালার ক্যামেরা দিয়ে ভূপৃষ্ঠের একদম প্রকৃত ছবি তোলা সম্ভব। শুধু তাই না, একইসাথে এটি ভূপৃষ্ঠের আকার-আকৃতি সম্পর্কেও তথ্য দেয়। সাধারণ ক্যামেরার মত কাজ করলেও এটি খুবই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন। ইসরো তাদের পরবর্তী বিভিন্ন মিশনে এই সমস্ত ক্যামেরার ব্যাবহার করবে। বিশেষত চন্দ্রযান-৩ এ। সেখানে মার্স কালার ক্যামেরার আদলে টেরেন ম্যাপিং ক্যামেরা হবে। সেটি চাঁদের পৃষ্ঠের সঠিক ছবি তুলতে পারবে।

এছাড়া রয়েছে মঙ্গলযানের মিথেন সেন্সর। প্রাণের খোঁজ করাই কাজ এই সেন্সরের। এর ফলে যেকোনো গ্রহে প্রাণ রয়েছে কিনা তা নির্ভুলভাবে বলে দেওয়া যায়। এছাড়া মঙ্গলযানের বাকি অংশকেও কোনো মিশনে ব্যাবহার করবে ইসরো। তাই মঙ্গলযান কাজ করা বন্ধ করে দিলেও এখনো দেশের বহু কাজে লাগবে তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *