রাজনৈতিক খবর রাজ্যের খবর

প্রশান্ত কিশোর কংগ্রেসে..! স্বাগত জানিয়েও টুইট মুছলেন রাহুল ঘনিষ্ঠ নেত্রী

ডেস্ক, সুমিতা তপস্বী : প্রশান্ত কিশোর কি তবে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন? মঙ্গলবার রাহুল-সোনিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পরই ভোট-কৌশলীকে নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক চর্চা। জল্পনা ওঠে পিকে এবার যোগ দিচ্ছেন হাত শিবিরে। মিশন ২০২৪-এর টার্গেট নিয়ে তাঁকে দলে স্বাগত জানাচ্ছেন গান্ধী পরিবার? এই জল্পনাই যেন আরও বেশ খানিকটা উস্কে দিল রাহুল ঘনিষ্ঠ নেত্রীর ট্যুইটার পোস্ট। কী লিখলেন কংগ্রেস নেত্রী অর্চনা ডালমিয়া ?

বুধবার নিজের ট্যুইটারে অর্চনা ডালমিয়া লেখেন, ‘কংগ্রেস পরিবারে প্রশান্ত কিশোরকে স্বাগত জানাচ্ছি।’ কিন্তু, তাৎপর্যপূর্ণভাবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই পোস্টটি ডিলিট করে দেন ওই নেত্রী।

জাতীয় রাজনীতিতে হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া কংগ্রেস৷ আর সেই তাগিদ এতটাই যে শেষ পর্যন্ত ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের শরণাপন্ন হতে হলো রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীদের৷ ২০১৭ সালে উত্তর প্রদেশে বিপর্যয়ের পর এই প্রশান্ত কিশোরকেই কাঠগড়ায় তুলেছিলেন কংগ্রেস শীর্ষ নেতাদের একাংশ৷ কিন্তু এখন কংগ্রেসের এতটাই কোণঠাসা অবস্থা, জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের গুরুত্ব বজায় রাখতে গেলে প্রশান্ত কিশোরের মতো পরীক্ষিত এবং সফল ভোট-কৌশলীকেই সবথেকে বেশি প্রয়োজন তাদের৷

রাজনৈতিক মহলে খবর রটে যায়, পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশে ভোটের জন্য কংগ্রেস প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। আর সেই কারণেই মঙ্গলবার রাহুলের বাসভবনে পিকের সঙ্গে বৈঠক করে কংগ্রেস হাইকমান্ড। কিন্তু এদিন অর্চনা ডালমিয়ার এই ট্যুইট পিকের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ফের নয়া জল্পনা তৈরি করল। 

মঙ্গলবারের এই বৈঠক নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা ভোটের আগে এই বৈঠক নতুন কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাহুলের পাশাপাশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে কথা হয়। ছিলেন শীর্ষনেতা কেসি ভেনুগোপালও। রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-পিকের বৈঠকে ছিলেন পাঞ্জাব কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক হরিশ রাওয়াতও। রাহুল গান্ধীর বাসভবনেই এই বৈঠক হয়।

ঘুরে দাঁড়াতে গেলে কংগ্রেসের কী করণীয়, বৈঠকে প্রশান্ত কিশোরের কাছ থেকে সোনিয়া- প্রিয়াঙ্কারা সেই পরামর্শও চান বলে সূত্রের খবর৷ কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ তেইশ জন নেতাও এর আগে সোনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে দাবি করেছিলেন, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে, কংগ্রেসের পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়৷’

সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্ব যখন কংগ্রেস নেতৃত্ব বুঝতে পেরেছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে৷ তার পরেও বেশ কয়েকটি ইস্যুতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুললেও বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে তার সুফল ঘরে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে কংগ্রেস৷ অনেক ক্ষেত্রেই মনে হয়েছে, কোন ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি-কে আক্রমণ করতে হবে, সেটাই বুঝতে পারছেন না কংগ্রেস নেতারা৷ এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কংগ্রেস নেতাদের পরস্পর বিরোধী মন্তব্য এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ- অসন্তোষের প্রকাশ করার রোগ৷ সব মিলিয়ে কংগ্রেসের দুর্বল হওয়ার কারণ এক নয়, একাধিক৷ তার মধ্যে জিতিন প্রসাদ, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াদের মতো তরুণ নেতাদের দলত্যাগও কংগ্রেসকে ধাক্কা দিয়েছে৷

প্রশান্ত কিশোরের মতো ব্যক্তিত্বের কংগ্রেসের সংগঠনের সঙ্গে কোনওভাবে যুক্ত থাকা নিয়ে এখনও দলের কিছু নেতার আপত্তি রয়েছে৷ কিন্তু কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন, ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এ ছাড়া আর বিকল্প উপায় নেই৷

তবে বিষয়টি এতটাও সহজ হবে না৷ প্রশান্ত কিশোরের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, কংগ্রেস নিয়ে পিকে-র মনোভাব এখনও খুব একটা ইতিবাচক নয়৷ শেষ পর্যন্ত সত্যিই যদি তিনি কংগ্রেসের ‘পরামর্শদাতা’ বা অন্য কোনও দায়িত্ব নেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের মতোই কংগ্রেসেও তাঁকে নিজের শর্তে কাজ করতে দিতে হবে৷ তবেই রাজি হবেন তিনি৷

বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায়, কখন কী বলবেন, সেই পরামর্শও যেমন প্রশান্ত কিশোর দেন, সেরকমই তৃণমূলের সংগঠনে ব্লক স্তর থেকে শুরু করে জেলা স্তরের নিয়োগ নিয়েও তাঁর মতামত নেওয়া হয়৷ এখন যেমন কংগ্রেসের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, সেরকমই ভোটের আগে প্রশান্ত কিশোরের আধিপত্য নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন৷ কিন্তু ভোটের ফলপ্রকাশের পর সেই নিন্দুকরা চুপ করে গিয়েছেন৷

কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বও আশাবাদী, এবার তাদের দলেও এরকমই কিছু হতে চলেছে৷ খুব শিগগিরই কংগ্রেসে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে৷ দলের পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, বহু প্রতীক্ষিত সেই প্রশ্নের উত্তরও সম্ভবত মিলতে চলেছে৷ বিক্ষুব্ধ ২৩ জন নেতাও অভিযোগ করেছিলেন, শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে ধোঁয়াশার জন্যই আরও বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন নিচুতলার নেতা কর্মীরা৷ আর এই সমস্ত বিভ্রান্তি কাটাতেই এবার প্রশান্ত কিশোরকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছে কংগ্রেস৷

সম্প্রতি NCP নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গেও দু’বার পিকের সাক্ষাৎ ঘিরেও জল্পনা জোরালো হয়ে ওঠে। ‘মিশন ২০২৪’ নিয়ে চর্চার আবহে পাওয়ারের সঙ্গে পিকের বৈঠককে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয় রাজনীতির ময়দানে। গত ১১ জুন মুম্বইয়ে শরদ পাওয়ারের মুম্বইয়ের বাসভবনে তাঁরা বৈঠক করেন। পিকে-পাওয়ারের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ হয় দিল্লিতে। মিশন বাংলার পর তা হলে কি এ বার মিশন ২০২৪? ভোট-কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে NCP নেতা শরদ পাওয়ারের বৈঠক উস্কে দেয় এই জল্পনাই। মুম্বইয়ে শরদ পাওয়ারের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান প্রশান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *