আন্তর্জাতিক

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার থেকে সাবধান থাকুন! হ্যাকাররা চুরি করছে আপনার ফোনের সমস্ত তথ্য।

বিউরো ঃ- বাইরে কিংবা কোনো রেস্তোরাঁয়, শপিং মল  কিংবা কফি শপে প্রবেশ করেই অনেকেই সেখানকার ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকেন। ফোনের ইন্টারনেট খরচ বাঁচিয়ে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ লাভ করতে গিয়ে, কত বড় বিপদ ডেকে আনছেন তা আপনি নিজেও জানেন না।

প্রখ্যাত সিকিউরিটি রিসার্চ ফার্ম Kaspersky এর তথ্য বলছে, পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের ফলে খুব সহজে আপনার ফোন হ্যাক করে নিতে পারে হ্যাকাররা।

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা কেন বিপজ্জনক?

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, পাবলিক ওয়াইফাইগুলির নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল হয়। এই ধরণের নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি লেয়ার খুব কম থাকে। ফলে হ্যাকারের পক্ষে এই নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়ে ওঠে। এছাড়াও এই দুর্বল ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হ্যাকার ম্যালওয়্যার প্রবেশ করাতে পারে ব্যবহারকারীর স্মার্টফোনে। কেউ যদি সেই ওয়াইফাই কানেকশন ব্যবহার করে কোনো ফাইল শেয়ার করে বা সংবেদনশীল তথ্য সেন্ড করে তা অনায়াসে জেনে যেতে পারবে হ্যাকাররা। সাধারণত সাইবার অপরাধীরা সেইসব দুর্বল পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্ককে টার্গেট করে যেখানে অনেক মানুষের আনাগোনা হয়। যেমন শপিং মল, রেলওয়ে স্টেশন, মেট্রো স্টেশন, থিম পার্ক ইত্যাদি। তবে এর মানে এই নয় যে একদমই পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার থেকে আপনাকে দূরে থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি –

১. অটো জয়েনিং বন্ধ করে রাখুন। এই ফিচারে একবার কোনো পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে আর ফোনে যদি অটো জয়েনিং সক্রিয় থাকে তাহলে দ্বিতীয়বার যখন সেই স্থানে পৌঁছবেন অটোমেটিক ওয়াইফাই কানেক্ট হয়ে যাবে। তাই এই অপশনটি ডিজেবেল করে রাখুন।

২. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করুন, এর কারণ এটি ডেটা এনক্রিপ্টেড রাখে। ফলে তৃতীয় ব্যক্তির পক্ষে আপনার ফোনের নিয়ন্ত্রণ পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

৩. ভিপিএন ছাড়াও ফোনের সিকিউরিটি সক্রিয় রাখতে HTTPS যুক্ত ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। এই ধরণের ওয়েবসাইটে সিকিউরিটি লেয়ার বেশি থাকে।

৪. পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করে কখনোই ব্যাংকিং, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার ইত্যাদি কাজ করবেন না।

৫. বাইরে বেরোলে চেষ্টা করুন মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে আর একান্তই যদি ওয়াইফাই ব্যবহার করতে হয় তাহলে যাচাই করে নেবেন সেটি সিকিউর ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক কিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *