জেলার খবর অর্থনীতি রাজ্যের খবর

পড়াশোনায় প্রথম হয়েও বাবার ঢিমে তালে চলা হোটেল কে জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকান পরিণত করল নাবালিকা দুই কন্যা।

অঞ্জন শুকুল, নদীয়াঃ কথায় আছে যে রাধে সে চুলও বাঁধে, তবে অপরিণত বয়সে দুই নাবালিকার

ঘটনায় স্তম্ভিত গোটা নেট দুনিয়া। এই বয়সে যখন বোনে বোনে খুনটুসি করবে , খেলার মাঠে খেলা করবে , আধুনিক যুগে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকবে সেখানে সমস্ত কিছুকে ঘরের শিখেই তুলে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন নতুন জীবনের সন্ধানে । ঘটনা শুনে অবাস্তব মনে হলেও বাস্তবে সেই চিত্রে ধরা পড়ল আমাদের ক্যামেরায় । শুধু নিজেরাই স্বাবলম্বী তা নয়, বাবার রুগ্ন হোটেল কে জেলার মধ্যে জনপ্রিয় বিরিয়ানির দোকানে পরিণত করল তারা। বেনোজির এবং অনুপ্রেরণাদায়ক ঘটনাটি নদীয়ার মাজদিয়ায়।
বিরিয়ানি খেতে আমরা সকলেই মোটামুটি ভালোবাসি। দিনের পর দিন বিরিয়ানির চাহিদা বেড়েই চলেছে গ্রাম থেকে মফস্বল প্রতিটি এলাকাতেই। ছত্রাকের মতো গজিয়ে উঠছে এক একটি ফুটপাতে বিরিয়ানির দোকান। সন্ধ্যেবেলা রাস্তায় বেরোলে লালসালু কাপড়ে মোড়া হাড়ি থেকে গরম ধোয়া ওঠা বিরিয়ানির গন্ধে মন ভরে যায়। আর মানুষের এই বিরিয়ানির প্রতি আগ্রহের ওপর নির্ভর করেই বিরিয়ানির দোকান খুলে জীবিকা নির্বাহ করছে বর্তমানে বহু মানুষ। এর আগে সোশ্যাল মাধ্যমে একাধিক বিরিয়ানির দোকান উঠে এসেছে। পুরুষ মহিলা গৃহবধূ অনেকেই বিরিয়ানি বানিয়ে বিক্রি করতে দেখা গেলেও শিশু অথবা কিশোরীদের কখনোই দেখা যায়নি বিরিয়ানি বিক্রি করতে।

তবে নদিয়ার মাজদিয়া বটতলার মোড়ে ইদানিং দেখা যাচ্ছে দুই কিশোরীকে বিরিয়ানি বিক্রি করতে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার বাবার রয়েছে একটি হোটেল। বাবাকে সাহায্য করার জন্যই দুই বোন মিলে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার দোকানে এসে হাজির হয় বিরিয়ানি বানাতে এবং বিক্রি করতে। এখানেই শেষ নয় তাদের দোকানে পাওয়া যায় মাত্র ৬০ টাকায় চিকেন বিরিয়ানি। এর কারণ হিসেবে জানতে চাইলে তারা বলে, বিরিয়ানি খেতে সকলেই পছন্দ করে তবে পয়সার অভাবে অনেকে খেতে পায় না সেই কারণে দাম কম রেখেছে তারা। তবে দামে কম হলেও মানে ভালো তাদের বানানো এই বিরিয়ানি। মূলত সম্পূর্ণ হোটেলটি তাদের বাবা চালালেও এখন পড়াশোনার ফাঁকে বাবার কাছে এসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে এই দুই বোন।

আর তাদের হাতের বিরিয়ানি খেতে বর্তমানে ভিড় করছেন আপামর দর্শক। তবে বিরিয়ানি বানাতেই তারা দুঃখ নয় কাজের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সমান দক্ষতা অর্জন করেছে একাদশ শ্রেণি এবং অষ্টম শ্রেণীতে পাঠরতা ওই দুই বোন। জানা গেছে দুজনেই নিজেদের ক্লাসে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করে রেখেছে তারা। ভবিষ্যতে ইচ্ছে রয়েছে বাবার এই দোকানটি আরো বড় করে তুলে ধরে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাদেরও পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নেওয়ার। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ইতিমধ্যেই তাদের দোকান জেলার মধ্যে অন্যতম সেরা বিরিয়ানির দোকান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *