অর্থনীতি

ছাত্র-ছাত্রীদের একাউন্টে ঢুকেছে 10,000 করে রাজ্যে শুরু ট্যাবের টাকা বিলি

বিউরো, ডেস্ক :- পড়াশোনার জন্য ভরসা অনলাইন ক্লাস। কিন্তু অনেক পড়ুয়ার কাছে স্মার্টফোন না-থাকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত বছরেই ঘোষণা করেন, দ্বাদশ শ্রেণির সব ছাত্রছাত্রীকে ট্যাব কেনার জন্য টাকা দেওয়া হবে। ট্যাব কেনার টাকা প্রতি বছরেই পাবেন দ্বাদশের পড়ুয়ারা।

গত বছর ট্যাব কেনার টাকা পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তাতে বিতর্কও হয়েছিল ব্যাপক। প্রশ্ন ওঠে, এত দেরি করে ট্যাবের টাকা পেলে পরীক্ষার্থীরা কী ভাবে অনলাইন ক্লাস করে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি চালাবে? করোনার প্রকোপ বাড়ায় শেষ পর্যন্ত অবশ্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাই বাতিল হয়ে যায়।

এ বার সেপ্টেম্বরের গোড়াতেই ট্যাবের টাকা আসতে শুরু করায় পড়ুয়ারা খুশি। নদিয়ার পড়ুয়া প্রসেনজিত্‍ চৌধুরী বলল, ”করোনা পরিস্থিতি ঠিক থাকলে পুজোর পরে স্কুল খুলবে। তার আগেই ট্যাব কিনতে পারলে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি অনেক ভাল ভাবে চালানো যাবে।” বীরভূমের লাভপুর সত্যনারায়ণ শিক্ষা নিকেতন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনীষা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির সব পড়ুয়ার কাছে স্মার্টফোন বা ট্যাব ছিল না। এ বার সবাই ট্যাব পেয়ে গেলে সেপ্টেম্বরেই অনলাইন ক্লাস করতে পারব। এই ট্যাব শুধু উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতির জন্যই নয়, উচ্চশিক্ষাতেও কাজে লাগবে।” মনীষাদেবী জানান, দ্বাদশে উঠলে ট্যাব পাওয়া যাবে, এই আশায় এ বার গ্রামগঞ্জের স্কুল একাদশে ভর্তির হারও বেড়েছে।

ট্যাব কেনার পরে তার মূল রসিদ স্কুলে জমা দিতে হয় পড়ুয়াদের। প্রধান শিক্ষকদেরই সেই রসিদ পাঠাতে হয় জেলা স্কুল পরিদর্শকদের কাছে। কিছু প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য, অনেকে ট্যাব কিনে রসিদ জমা দিতে চাইছে না। তাদের প্রশ্ন, ট্যাব খারাপ হয়ে গেলে এবং সেটা ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধ্যে থাকলে সারানোর জন্য মূল রসিদ লাগে। রসিদ জমা দিয়ে দিলে তখন তারা ট্যাব সারাবে কী করে? প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানাচ্ছেন, গত বছর এই নিয়ে কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল। এ বার এই বিষয়ে শিক্ষা দফতরের অগ্রিম কিছু ভাবনাচিন্তা থাকলে তা জানিয়ে দিলে ভাল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *