স্বাস্থ্য প্রযুক্তি

অস্বাভাবিক যৌন আকর্ষণও মানসিক অসুস্থতা।

অস্বাভাবিক যৌন আকর্ষণ ও মানসিক অসুস্থতা
প্যারাফিলিক ডিজঅর্ডার হলো একধরনের মানসিক রোগ। এতে আক্রান্ত রোগিরা স্বাভাবিক যৌন আকর্ষণ বাদ দিয়ে এমন সব যৌন আকর্ষণ যা অস্বাভাবিক এবং ব্যক্তি ও সমাজের ক্ষতি সাধন এমনকি নিজের বা অপরের মৃত্যুও ঘটাতে পারে। এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো সেক্সুয়াল ম্যাসোকিজম ডিজঅর্ডার। এটা এমন এক ধরনের প্যারাফিলিয়া যেখানে একজন ব্যক্তি তার পার্টনারের মাধ্যমে অন্তরঙ্গতার মুহূর্তে প্রচণ্ড ব্যথা বা কষ্ট পেতে পছন্দ করে।
আরেকটা হলো সেক্সুয়াল স্যাডিজম ডিসঅর্ডার। এটি ম্যাসোকিজমের বিপরীত। এটি একটি বিপজ্জনক প্যারাফিলিয়া। অসংখ্য সিরিয়াল কিলারের মাঝে সেক্সুয়াল স্যাডিজম ডিজঅর্ডার দেখা যায়।
চূড়ান্ত পরিণতিতে স্যাডিস্ট রা পার্টনারকে খুন (লাস্ট মার্ডার) পর্যন্ত করতে পারে।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যৌন বিকৃতির একটি পিডোফিলিয়া। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছোটো শিশুদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা যৌন হয়রানি করার প্রবণতাকে পিডোফিলিয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
আরও আছে নেক্রোফিলিয়া।
এটি একটি ভয়ানক প্রকৃতির যৌন বিকৃতি। মৃতদেহের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করাকে বলে নেক্রোফিলিয়া। এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এ ধরনের বিকৃতিতে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা বাধা বা প্রত্যাখ্যান সহ্য করতে পারে না। মৃতদেহ কখনো বাধা প্রদান বা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে না—এ নিশ্চয়তা থেকেই মরদেহের সাথে যৌন সংসর্গ করে থাকে নেক্রোফাইলরা।
ফেটিশটিক ডিজঅর্ডারের রোগীদের আচরণ আবার একদম আলাদা।
ফেটিশ বলতে বোঝায় কোনো ধরনের প্রাণহীন জড়বস্তু বা এমন অঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ যা সাধারণভাবে যৌনতা সূচক নয়। যেমন কারো কারো হাত বা পায়ের প্রতি অদম্য যৌন আকর্ষণ কাজ করে।
এমন অনেক বিকৃত যৌন আচরণকারী ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে যারা নারীর হাত-পা কেটে কেটে জমায়। সেই হাত বা পায়ে কোনো ধারালো যন্ত্রের মাধ্যমে ছিদ্র করে বিকৃত যৌনাচার করে (হাতের প্রতি বিকৃত আকর্ষণকে বলে শেরোফিলিয়া এবং পায়ের প্রতি যৌন বিকৃতিকে বলে পডোফিলিয়া। হাত-পা ছাড়াও যেকোনো অযৌন অঙ্গ বা যেকোনো জড় বস্তু ফেটিশটিক ডিজঅর্ডারের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
সুতরাং বিকৃত যৌনতা আসলে মানসিক ডিজঅর্ডারের মধ্যে পড়ে। কিন্ত এর মানে এই নয়, এসব অপরাধ করে সে মানসিক রোগী বলে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে। সবার ক্ষেত্রে ‘মানসিক অসুস্থতার সুবিধা’ নেওয়ার সুযোগে নেই। এ নিয়ে আগেও আলোচনা করেছি, সামনেও আলোচনা হবে।

তথ্যঃ মালিহা তাবাসসুম, চিকিৎসক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *